ঢাকা ১১:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত লক্ষ্মীপুরে নকল ঘির ডিলারকে লাখ টাকা জরিমানা : ৩৫০ কেজি ঘি ধ্বংস লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিককে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় ৬জনকে আসামী করে থানায় মামলা, দুই মামলায় গ্রেফতার সন্ত্রাসী সাকিব  দীপ্ত টিভির সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে গুলি, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা, বাহিনী প্রধান সাকিবকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা দূষণমুক্ত নদী ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্মীপুরে পানিতে ডুবে একই পরিবারের তিনজন নিহত রায়পুরে মাদকাসক্ত যুবকের দেয়া আগুনে পুড়ে গেছে ১১টি বসতঘরসহ৬ দোকান,অভিযুক্তকে গনপিটুনি উৎসাহ-উদ্দীপনায় শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উদযাপিত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ :স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান: পানিসম্পদমন্ত্রী

রামগতিতে এলজিইডি প্রকৌশলীর সহযোগিতায় খাল পুন:খননের মাটি ইটভাটায় ! কৃষকদের বিক্ষোভ

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • 134

তাবারক হোসেন আজাদ:নিয়ম ছিল সেচ খালের মাটি থাকবে খালের দুই পাড়েই, যা রক্ষা করবে স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি। কিন্তু সরকারি সেই নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, তড়িঘড়ি করে নামমাত্র মূল্যে খালের মাটি নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

রামগতির জারিরদোনা খাল খনন প্রকল্পের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে- ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি রক্ষার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেছে।বুধবার (১০ জুন) সকালে ভুক্তভোগী কৃষকরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

মালেক হোসেন, জবর মাঝি, খালেক সৈয়ালসহ স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রামগতির চর আলগি ইউনিয়নে জারিরদোনা খালের প্রায় চার কিলোমিটার পুনর্খননে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ৬৮ লাখ টাকা। সরকারি দরপত্র অনুযায়ী, খাল থেকে তোলা মাটি দুই পাড়ের সুফলভোগীদের জমি ভরাট এবং স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগানোর কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সব নিয়ম না মেনে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায়। তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের মাটি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে আঁতাত করে নামমাত্র ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে দিয়েছেন, যা যাবে একটি অবৈধ ইটভাটায়।

কৃষকদের দাবি, সরকারি কোষাগারে সমপরিমাণ টাকা জমা দিয়ে তারা নিজেরা মাটি রাখতে চাইলেও, সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি তাদের। মাটি সরিয়ে নিলে আসন্ন বর্ষায় জোয়ার ও অতিবৃষ্টিতে তাদের চাষাবাদের জমি ভেঙে খালে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া কৃষকরা অভিযোগ করে জানান,আমাদের ফসলি জমির ওপর দিয়েই এই খাল খনন করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী মাটি পাড়েই রাখার কথা। কিন্তু আমাদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। মাটি না থাকলে বর্ষায় আমাদের জমি সব খালে চলে যাবে। আমরা নিজেরা টাকা দিয়ে মাটি রাখতে চাইলেও আমাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

নিলামে মাটি ক্রেতা -আজাদ উদ্দিন ডলার বলেন,আমি কোনো অনিয়ম করিনি। প্রকাশ্য নিলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবেই আমি এই মাটি কিনে নিয়েছি। কোনো ইটভাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।নিয়ম মেনেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, মাটি ইটভাটায় যাচ্ছে কিনা তা কিছু জানিনা।

এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে কৃষকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় কোনো অবস্থাতেই খালের মাটি ইটভাটায় নিতে দেবেন না বলে জানান এলাকাবাসী।

সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল যেখানে কৃষকদের ঘরে পৌঁছানোর কথা, সেখানে একশ্রেণির কর্মকর্তার অবহেলা আর সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করার এই চেষ্টা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিকে হুমকির মুখে ফেলছে। সাধারণ কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষা পাবে নাকি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের পকেট ভারী হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদার টাকার জন্য দোকানে ও ব্যবসায়ীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার চেষ্টা, তিন ব্যবসায়ী আহত

রামগতিতে এলজিইডি প্রকৌশলীর সহযোগিতায় খাল পুন:খননের মাটি ইটভাটায় ! কৃষকদের বিক্ষোভ

আডেট সময় ১১:৫৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ:নিয়ম ছিল সেচ খালের মাটি থাকবে খালের দুই পাড়েই, যা রক্ষা করবে স্থানীয় কৃষকদের ফসলি জমি। কিন্তু সরকারি সেই নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, তড়িঘড়ি করে নামমাত্র মূল্যে খালের মাটি নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।

রামগতির জারিরদোনা খাল খনন প্রকল্পের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে- ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি রক্ষার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেছে।বুধবার (১০ জুন) সকালে ভুক্তভোগী কৃষকরা এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

মালেক হোসেন, জবর মাঝি, খালেক সৈয়ালসহ স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, রামগতির চর আলগি ইউনিয়নে জারিরদোনা খালের প্রায় চার কিলোমিটার পুনর্খননে বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ৬৮ লাখ টাকা। সরকারি দরপত্র অনুযায়ী, খাল থেকে তোলা মাটি দুই পাড়ের সুফলভোগীদের জমি ভরাট এবং স্থানীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগানোর কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সব নিয়ম না মেনে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায়। তিনি প্রায় ২০ লাখ টাকা বাজারমূল্যের মাটি একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সাথে আঁতাত করে নামমাত্র ২ লাখ ৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করে দিয়েছেন, যা যাবে একটি অবৈধ ইটভাটায়।

কৃষকদের দাবি, সরকারি কোষাগারে সমপরিমাণ টাকা জমা দিয়ে তারা নিজেরা মাটি রাখতে চাইলেও, সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি তাদের। মাটি সরিয়ে নিলে আসন্ন বর্ষায় জোয়ার ও অতিবৃষ্টিতে তাদের চাষাবাদের জমি ভেঙে খালে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া কৃষকরা অভিযোগ করে জানান,আমাদের ফসলি জমির ওপর দিয়েই এই খাল খনন করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী মাটি পাড়েই রাখার কথা। কিন্তু আমাদের না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। মাটি না থাকলে বর্ষায় আমাদের জমি সব খালে চলে যাবে। আমরা নিজেরা টাকা দিয়ে মাটি রাখতে চাইলেও আমাদের সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

নিলামে মাটি ক্রেতা -আজাদ উদ্দিন ডলার বলেন,আমি কোনো অনিয়ম করিনি। প্রকাশ্য নিলামে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবেই আমি এই মাটি কিনে নিয়েছি। কোনো ইটভাটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।নিয়ম মেনেই নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে দাবি করে উপজেলা প্রকৌশলী স্নেহাল রায় বলেন, মাটি ইটভাটায় যাচ্ছে কিনা তা কিছু জানিনা।

এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চেয়ে কৃষকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় কোনো অবস্থাতেই খালের মাটি ইটভাটায় নিতে দেবেন না বলে জানান এলাকাবাসী।

সচেতন মহলের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল যেখানে কৃষকদের ঘরে পৌঁছানোর কথা, সেখানে একশ্রেণির কর্মকর্তার অবহেলা আর সিন্ডিকেটের পকেট ভারী করার এই চেষ্টা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষিকে হুমকির মুখে ফেলছে। সাধারণ কৃষকদের ফসলি জমি রক্ষা পাবে নাকি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের পকেট ভারী হবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।