ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি প্রথম ফ্লাইট দেশে ফিরলেন ৪৪৫ জন হাজী লক্ষ্মীপুরে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ সমাজ পুর্নগঠনে সাংবাদিকদের সহযোগীতা চাইলেন সমাজকল্যানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী শনিবার ৭৪ দিন পর দেশে ফিরল ইরাকে নিহত প্রবাসী হবি মিয়ার মরদেহ, আহাজারি লাউয়াছড়ায় তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত, সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ লক্ষ্মীপুরে মেঘনার পাড় যেন ‘মিনি কক্সবাজার’ জনসমুদ্র কমলনগরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঈদ পুনর্মিলনী ও মশাল মিছিলের ভিডিও ভাইরাল সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, অপেক্ষা ট্রাম্পের

এসএসসিতে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: রায়পুরে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ১১:০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • 67

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি দিয়েছে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড ও ইউএনও। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য-“রায়পুরে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা” এ শিরোনামে বুধবার সন্ধায় মেঘনার তীরসহ গনমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতেই তোলপাড় সৃষ্ট হলে নড়েচড়ে বসেন উপজেলা প্রশাসন ও কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড।

বুধবার (৬ মে) রাতেই কেন্দ্র সচিব ও সরকারি মাচ্চেন্টস একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফারুকী, হল সুপার ওই স্কুলেরই সহকারি শিক্ষক মেছের আহম্মেদ ও ট্যাগ অফিসার (পল্লী উন্নয়ন ব্যাংক কর্মকর্তা) ফাতেমা আক্তারকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সহকারী শিক্ষক (জীব বিজ্ঞান) কার্তিক চন্দ্র সরকারকে নতুন কেন্দ্র সচিব এবং একাডেমিক সুপার ভাইজার মাইন উদ্দিনকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে বৃহস্পতিবার রাতে (৭ মে) ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৫ মে) রায়পুর সরকারি মাচ্চেন্টস একাডেমি কেন্দ্রের দ্বিতীয় সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রের অপর সেন্টারে ঠিক প্রশ্নেই পরীক্ষা হয়েছে। কুমিল্লাবোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পত্র লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিলো তিন নাম্বার সেটে। কিন্তু নেওয়া হয় এক নম্বর সেটে। সেখানে পরীক্ষা দিয়েছেন ১৩০ জন পরীক্ষার্থী।

ঘটনাটি বুধবার দুপুরে (৬ মে) জানতে পেরে বোর্ড থেকে শোকজ করা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারুকীকে।তবে প্রশ্নপত্র ভুলের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না দাবি করেন প্রধান শিক্ষক। ভুল সেটে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষার্থীরা বুঝতে পারে অন্য স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনার সময়। এরপর অনেকেই দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারেনি বলে এ প্রতিবেদককে বলেছেন।

এই ঘটনাকে গুরুতর দায়িত্ব অবহেলা বলে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ কবীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কেন্দ্র সচিববের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি পাঠানো হয়েছে।’ শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়বে না। ওই সেটের প্রশ্ন অনুসারেই শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করা হবে। পরীক্ষার খাতা মিলিয়ে ফেলার পরেই ভুলের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ওই সেন্টারের খাতাগুলো আলাদা করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

অসাবধানতার কারণে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে বলে দায় স্বীকার করেছেন কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারকী । তিনি জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে অন্য একটি ফ্লোরের সিসিটিভি সংক্রান্ত জটিলতা দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যেই প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন মেছের আহমেদ নামের আরেকজন শিক্ষক। কিন্তু নিয়ম অনুসারে কেন্দ্র সচিবেরই প্রশ্নপত্র বিতরণ করার কথা। প্রথা অনুসারে, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে পরীক্ষার কেন্দ্রে বস্তাবন্দি করে দুটি পৃথক সেটের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয়ের জন্যেও কেন্দ্রে ‘এক’ এবং ‘তিন’ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। এরপর পরীক্ষার আগে মোবাইল ফোনে নির্ধারিত সেটের বার্তা আসার পর সেই সেটের প্রশ্নের বস্তা খোলার কথা কেন্দ্র সচিবের।

সেদিনও কেন্দ্র সচিবের মোবাইল ফোনে ‘তিন’ নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়। কেন্দ্র সচিব এসএমএসটি দেখে এক নম্বর সেটের বস্তাটি আলাদা করেছিলেন। কিন্তু বস্তাটি খোলেন আরেক শিক্ষক হল সুপার মেছের আহম্মেদ।

এসএসসি কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, প্রশাসন থেকে তিনজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।

Tag :
লেখকের তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে : রাষ্ট্রপতি

এসএসসিতে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ: রায়পুরে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি

আডেট সময় ১১:০৮:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

তাবারক হোসেন আজাদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে অব্যাহতি দিয়েছে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড ও ইউএনও। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীর ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য-“রায়পুরে ভুল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা” এ শিরোনামে বুধবার সন্ধায় মেঘনার তীরসহ গনমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতেই তোলপাড় সৃষ্ট হলে নড়েচড়ে বসেন উপজেলা প্রশাসন ও কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড।

বুধবার (৬ মে) রাতেই কেন্দ্র সচিব ও সরকারি মাচ্চেন্টস একাডেমির প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফারুকী, হল সুপার ওই স্কুলেরই সহকারি শিক্ষক মেছের আহম্মেদ ও ট্যাগ অফিসার (পল্লী উন্নয়ন ব্যাংক কর্মকর্তা) ফাতেমা আক্তারকেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সহকারী শিক্ষক (জীব বিজ্ঞান) কার্তিক চন্দ্র সরকারকে নতুন কেন্দ্র সচিব এবং একাডেমিক সুপার ভাইজার মাইন উদ্দিনকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে বৃহস্পতিবার রাতে (৭ মে) ইউএনও মেহেদী হাসান কাউছার মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৫ মে) রায়পুর সরকারি মাচ্চেন্টস একাডেমি কেন্দ্রের দ্বিতীয় সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্রের অপর সেন্টারে ঠিক প্রশ্নেই পরীক্ষা হয়েছে। কুমিল্লাবোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পত্র লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিলো তিন নাম্বার সেটে। কিন্তু নেওয়া হয় এক নম্বর সেটে। সেখানে পরীক্ষা দিয়েছেন ১৩০ জন পরীক্ষার্থী।

ঘটনাটি বুধবার দুপুরে (৬ মে) জানতে পেরে বোর্ড থেকে শোকজ করা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারুকীকে।তবে প্রশ্নপত্র ভুলের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না দাবি করেন প্রধান শিক্ষক। ভুল সেটে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি পরীক্ষার্থীরা বুঝতে পারে অন্য স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনার সময়। এরপর অনেকেই দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারেনি বলে এ প্রতিবেদককে বলেছেন।

এই ঘটনাকে গুরুতর দায়িত্ব অবহেলা বলে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ কবীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কেন্দ্র সচিববের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি পাঠানো হয়েছে।’ শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়বে না। ওই সেটের প্রশ্ন অনুসারেই শিক্ষার্থীদের খাতা মূল্যায়ন করা হবে। পরীক্ষার খাতা মিলিয়ে ফেলার পরেই ভুলের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় ওই সেন্টারের খাতাগুলো আলাদা করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

অসাবধানতার কারণে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে বলে দায় স্বীকার করেছেন কেন্দ্র সচিব মোস্তফা ফারকী । তিনি জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে অন্য একটি ফ্লোরের সিসিটিভি সংক্রান্ত জটিলতা দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। এর মধ্যেই প্রশ্নপত্র বিতরণ করেন মেছের আহমেদ নামের আরেকজন শিক্ষক। কিন্তু নিয়ম অনুসারে কেন্দ্র সচিবেরই প্রশ্নপত্র বিতরণ করার কথা। প্রথা অনুসারে, কেন্দ্র সচিবের দায়িত্বে পরীক্ষার কেন্দ্রে বস্তাবন্দি করে দুটি পৃথক সেটের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয়ের জন্যেও কেন্দ্রে ‘এক’ এবং ‘তিন’ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র পাঠানো হয়। এরপর পরীক্ষার আগে মোবাইল ফোনে নির্ধারিত সেটের বার্তা আসার পর সেই সেটের প্রশ্নের বস্তা খোলার কথা কেন্দ্র সচিবের।

সেদিনও কেন্দ্র সচিবের মোবাইল ফোনে ‘তিন’ নম্বর সেটে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে এসএমএস পাঠানো হয়। কেন্দ্র সচিব এসএমএসটি দেখে এক নম্বর সেটের বস্তাটি আলাদা করেছিলেন। কিন্তু বস্তাটি খোলেন আরেক শিক্ষক হল সুপার মেছের আহম্মেদ।

এসএসসি কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়ে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, প্রশাসন থেকে তিনজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।