ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে লক্ষ্মীপুরে পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত জুলাই আন্দোলনের ভিত্তি ছিল বিএনপির ১৭ বছরের সংগ্রাম: পানিসম্পদমন্ত্রী এ্যানি রায়পুরে ৬ মাস পর আশরাফুল হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার এনসিপির সমাবেশ শেষে হামলার অভিযোগ, সারজিস আলমসহ আহত ১০ বঙ্গভবনে কার্যক্রম শুরু ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির রামগতিতে ধর্ষণ মামলায় শিক্ষার্থীকে ফাঁসানোর অভিযোগ, ন্যায় বিচার চেয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন প্রবাসের স্বপ্ন ভেঙে দুই কফিনে ফিরলেন দুই ভাই : লক্ষ্মীপুরে শোকের ছায়া ড্রাম ট্রাক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধে লক্ষ্মীপুরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন  স্বাধীন গণমাধ্যমের জন্য নীতিমালা প্রণয়নে সম্পাদকদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী যথাসময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে: মির্জা ফখরুল

প্রবাসের স্বপ্ন ভেঙে দুই কফিনে ফিরলেন দুই ভাই : লক্ষ্মীপুরে শোকের ছায়া

  • মেঘনার তীর
  • আডেট সময় ০৩:০৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • 24

স্টাফ রিপোর্টার: জীবিকার সন্ধানে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই সহোদর ভাই সজীব ও সুজন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের দাম্মামে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর শেষ পর্যন্ত দুই কফিনে ফিরতে হলো তাদের। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি সংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় দুই ভাইকে। শেষ বিদায়ে আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নিহতরা হলেন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির আব্দুল মালেকের দুই ছেলে সজীব ও সুজন। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকে কাজের সহযোগিতার জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যান তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুই ভাই। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। মঙ্গলবারের জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা অংশ নেন।
নিহত সজিবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সজীব ও সুজন ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয়। তাদের অকাল মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে। জানাজা শেষে অনেকেই অশ্রুসিক্ত চোখে দুই ভাইকে শেষ বিদায় জানান। একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু প্রবাসজীবনের কঠিন বাস্তবতার আরেকটি বেদনাদায়ক উদাহরণ হয়ে রইল। স্বজন ও এলাকাবাসী মহান আল্লাহর কাছে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন।

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক, সন্ত্রাস, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে লক্ষ্মীপুরে পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত

প্রবাসের স্বপ্ন ভেঙে দুই কফিনে ফিরলেন দুই ভাই : লক্ষ্মীপুরে শোকের ছায়া

আডেট সময় ০৩:০৭:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার: জীবিকার সন্ধানে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের দুই সহোদর ভাই সজীব ও সুজন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের দাম্মামে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর শেষ পর্যন্ত দুই কফিনে ফিরতে হলো তাদের। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি সংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় দুই ভাইকে। শেষ বিদায়ে আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। নিহতরা হলেন চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির আব্দুল মালেকের দুই ছেলে সজীব ও সুজন। বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকে কাজের সহযোগিতার জন্য সৌদি আরবে নিয়ে যান তিনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে খেজুরবোঝাই একটি পিকআপে করে বাগান থেকে ফেরার পথে তাদের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুই ভাই। আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষবারের মতো একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। মঙ্গলবারের জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা অংশ নেন।
নিহত সজিবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সজীব ও সুজন ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয়। তাদের অকাল মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে। জানাজা শেষে অনেকেই অশ্রুসিক্ত চোখে দুই ভাইকে শেষ বিদায় জানান। একসঙ্গে দুই ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু প্রবাসজীবনের কঠিন বাস্তবতার আরেকটি বেদনাদায়ক উদাহরণ হয়ে রইল। স্বজন ও এলাকাবাসী মহান আল্লাহর কাছে তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করেছেন।