রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রামগতি মোঃ তাছিন (২০) নামের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে রাশেদা আক্তার (২৩) নামের এক গৃহবধূর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রাশেদা উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ আমির হোসেনের স্ত্রী। অভিযুক্ত মোঃ তাছিন একই এলাকার নুর আলমের ছেলে ও স্থানীয় রামগতি রব্বানীয়া মাদরাসার আলেম (এইচএসসি) পরিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জের ধরে তাছিনকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। ৪ দিন ধরে ওই শিক্ষার্থী চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
এঘটনার সত্য উদঘাটন ও ন্যায় বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে উপজেলার বয়ারচরের তেগাছিয়া বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন- শিক্ষার্থী তাছিনের বাবা নুর আলম ও স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান মিজান, সালাহ উদ্দিন ও কামাল উদ্দীন। মামলার এজাহার সুত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন রবিবার রাত ১২ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মোঃ তাছিন গৃহবধূ রাশেদার বসতঘরে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করে। বিচার চেয়ে ঘটনার ২২ দিন পর গত ২০ জুলাই তারিখে লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল আদালতে মোঃ তাছিনকে একমাত্র আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন রাশেদা। আদালত রামগতি থানার ওসিকে মামলাটি রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।
এদিকে ঘটনার ৩ দিন পর ১ জুলাই তারিখে মামলার বাদি রাশেদা ও তার স্বামী আমির হোসেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশের কাছে এসে জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে রাশেদা বলেন, গত ২৮ জুন রোববার সন্ধা ৭ টা থেকে রাত ২ টা পর্যন্ত উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর নতুন সমাজ গ্রামে তার বসতঘরে ফেনীর দাগনভুঁইয়া উপজেলার সাফুয়া গ্রামের গজারিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা জাহিদ (২৮) ও অপরচিত ৫ জন সহ মোট ৬ জন মিলে তাকে গনধর্ষণ করে। গৃহবধূর দেওয়া ভিডিও বক্তব্য ও তার স্বামী আমির হোসেনের অডিও বক্তব্যে বলা হয়, জাহিদ ভুক্তভোগী রাশেদার স্বামীর পূর্ব পরিচিত। পেশায় একজন ট্রাক্টর টলি চালক। ২৮ জুন রোববার সন্ধা ৭ টার দিকে জাহিদ হঠাৎ গৃহবধূর বসতঘরে প্রবেশ করে। তার স্বামীর পূর্ব পরিচিত হওয়ায় জাহিদকে দেখে ওই গৃহবধূ চিনে ফেলে। এর পর ঘরের লাইট বন্ধ করে দিলে আরও ৫ জন অপরিচিত লোক ঘরে প্রবেশ করে। এর পর ঘরের সকল দরজা জানালা বন্ধ করে ওই গৃহবধূর ৪ বছরের সন্তানের গলায় অস্ত্র ধরে তার হাত পাঁ বেঁধে ৬ জন মিলে ধর্ষণ করে তাকে। এতে গৃহবধূ জ্ঞান হারিয়ে পেললে রাত ২ টার পর অভিযুক্তরা চলে যায়। তখন গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। সে দাগনভুঁইয়া উপজেলায় সিএনজি চালায়।
ঘটনার ২২ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর গত ২০ জুলাই লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল আদালতে আগের অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে নতুন করে শুধুমাত্র মোঃ তাছিন (২০) নামের এক শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সময়ের দেওয়া ভুক্তভোগী রাশেদার বক্তব্য ও অভিযুক্ত জাহিদ সহ ৬ জনকে বাদ দিয়ে নতুন করে তাছিন নামের শিক্ষার্থীকে আসামি করে মামলা দায়ের নিয়ে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সরেজমিন গিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী রাশেদা ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাছিনের পরিবারের সাথে কথা বলেন এ প্রতিবেদক।
স্থানীয় বাসিন্দা, আব্দুল মান্নান মিজান, সালাহ উদ্দিন ও কামাল উদ্দীন বলেন, রাশেদার দায়ের করা মামলা ও তার কথার সাথে কোন মিল পাওয়া যাচ্ছেনা। সে একেক সময় একেক কথা বলে। ঘটনার পরের দিন বলছে তার আপন বাসুর জমির তাকে ধর্ষণ করছে। পরে বলছে স্থানীয় টাংকির ঘাট এলাকার অপরিচিত ২ জন এসে তাকে ধর্ষণ করে। এর পর বলে দাগনভুঁইয়া উপজেলার মোঃ জাহিদ সহ ৬ জন মিলে গণধর্ষণ করে। এখন মামলা দিয়েছে তাছিন নামের ২০ বছর বয়সের এক শিক্ষার্থীর নামে। তার এলোমেলো কথাবার্তায় এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
এলোমেলো কথা বলার কথা স্বীকার করে রাশেদার স্বামী আমির হোসেন বলেন, সে আমার স্ত্রী। তার কথার কোন মিল পাচ্ছিনা। একেক সময় একেক কথা বলে। ঘটনার সময়তো আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমি নিজেও সন্দেহের মধ্যে আছি। একবার বলে আমার ভাইয়ের কথা, আবার বলে টাংকির ঘাটের ২ জনের কথা, আবার বলে দাগনভুঁইয়ার জাহিদ সহ ৬ জন। এখন আবার তার কথায় তাছিনের নামে মামলা দিয়েছি।
মামলার বাদি রাশেদা বলেন, আমি ভয়ে এসব বলছি। তাছিন আমাকে যেভাবে শিখিয়ে দিচ্ছে, আমি সেভাবে কথা বলছি। আমার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রথমে ঘটনাটি গোপন রাখার চেষ্টা করছি। নিরুপায় হয়ে এখন মামলা দিয়েছি।
শিক্ষার্থী তাছিনের বাবা নুর আলম বলেন, ঘটনার সময় তার ছেলে বাড়িতে ছিলেন না। সে আলেকজান্ডার তার খালার বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করে, সেখানে ছিল। মামলায় উল্লেখিত অভিযোগের সঙ্গে তার ছেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি সম্পুর্ন পুর্বশত্রুতার জের ধরে তার ছেলের জীবন ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শিক্ষার্থীর বাবা আরও বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল পূর্বের বিরোধের জের ধরে তার ছেলেকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির চেষ্টা করছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ বলেন, স্পর্শকাতর হওয়ায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো পক্ষ সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হউক এটা সবাই চায়। তবে রাশেদার কথাবার্তায় সন্দেহ তৈরী হচ্ছে। একেক সময় একেক কথা বলছে সে।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা গ্রহণ করে আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে হয়রানি করা হবে না।
সংবাদ শিরোনাম :
রামগতিতে ধর্ষণ মামলায় শিক্ষার্থীকে ফাঁসানোর অভিযোগ, ন্যায় বিচার চেয়ে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
-
মেঘনার তীর - আডেট সময় ০৩:৪৮:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- 17
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ



















